সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন করে কয়েকটি সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন, স্বাস্থ্যবিমা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে । কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রস্তাবগুলো অনুমোদন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সুবিধাগুলো চালু হতে পারে।

বর্তমানে চারটি স্কিমে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত রয়েছেন। তাদের জমার পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তবে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় ব্যবস্থাটিকে আরও সুবিধাজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন নিয়মে পেনশনার মারা গেলে নমিনি তার ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পান। নতুন প্রস্তাবে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহককে তার জমা করা অর্থের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ঋণের বিপরীতে পাওয়া সুদও সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের পেনশন হিসাবে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর কেউ শারীরিক ও আর্থিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতে পারে।

এবং পেনশনারদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে । প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার মাধ্যমে এ সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

নতুন নিয়মে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক আলাদা স্কিম চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবগুলো অনুমোদন হলে বিধিমালা সংশোধন করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।