বিশ্ব ক্রিকেটে একটি উইকেট নেওয়ার সুযোগ মিস কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তারই উদাহরণ দেখা গেল বাংলাদেশ-ভারত এশিয়া কাপের মঞ্চে। দলটা যখন ভারত, তখন ক্যাচ মিসের খেসারত যে কতটা বড় হতে পারে, সেটিই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ভারতীয়রা । একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষের হাতে তুলে দেয় টাইগ্রেসরা। তিনটি ক্যাচের সুযোগ মিস, সঙ্গে দুইবার রানআউটের সুযোগও হাতছাড়া। আর বাংলাদেশের দেওয়া সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ব্যাট হাতে বাজিমাত করলেন ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মা। ১০ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬০ রানের ঘরে ভারত যখন কিছুটা বিপাকে, ঠিক তখনই দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন এই ব্যাটার। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশি বোলারদের দারুণ চাপে যখন কুপোকাত ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ, তখন একের পর এক ক্যাচ ও ফিল্ডিং মিসে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যেতে থাকে টাইগ্রেসরা। বাংলাদেশের বোলিং যেখানে ভারতকে ১১৫ থেকে ১২০ রানের মধ্যে আটকে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, সেখানে সুযোগ নষ্টের কারণে প্রতিপক্ষকে দেওয়া হয় বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ। আর সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয় ভারত। বাংলাদেশকে ছুড়ে দেয় ১৫০ রানের লক্ষ্যে। শুধু শেফালি ভার্মাই নন, বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের ভুলের সুযোগ নিয়ে ভারতের অন্য ব্যাটাররাও নিজেদের ইনিংসকে বড় করেছেন। একবার জীবন পাওয়া ব্যাটারকে ফেরানোর সুযোগ বারবার তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি টাইগ্রেসরা। ফলে যে ম্যাচে বোলারদের হাত ধরে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল, ফিল্ডারদের ভুলেই সেই নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়।

ক্রিকেটে ক্যাচই যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার অন্যতম বড় অস্ত্র, এই ম্যাচ যেন তারই আরেকটি প্রমাণ। ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তার মাশুল কতটা বড় হতে পারে, সেটিই দেখল বাংলাদেশ। বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতায় ম্যাচের সমীকরণ কঠিন হয়ে যায় টাইগ্রেসদের জন্য।