নেত্রকোণায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুস বা অর্থ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সেই এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেত্রীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি ও কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজিন দিনা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া ওই নেত্রী হলেন এনসিপির নেত্রকোণা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আক্তার (২২)। তিনি নেত্রকোণা সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নেত্রকোণা জেলার সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাদিয়া আক্তারকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দলীয় চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে সাদিয়া আক্তারকে নেত্রকোণা জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একই সঙ্গে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কেন চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাখ্যাসহ আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের কাছে লিখিতভাবে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শহরের কুড়পাড় এলাকা থেকে সাদিয়া আক্তারকে আটক করা হয়।
আটকের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা সাদিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার কথা বলে এলাকার পাঁচজন গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে বর্তমানে আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত রয়েছেন সাদিয়া আক্তার।
সূত্রঃ আমার দেশ