আজ ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিনগুলোতে রাতের আকাশে চোখ রাখলে দেখা মিলবে বেশ কিছু আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্যের। শনি গ্রহ থেকে শুরু করে পূর্ণিমার চাঁদ, শরৎকালীন নক্ষত্রমণ্ডল আর অন্ধকার আকাশে ছায়াপথ মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে বেশ কিছু দেখার মতো দৃশ্য। এই সময়ে রাতের আকাশে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হতে পারে শনি গ্রহ। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সূর্যাস্তের পর পূর্ব আকাশে শনিকে দেখা যাবে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও উঁচুতে উঠবে।

হারভেস্ট মুন কি?

২০২৬ সালে শনির অপজিশন হবে ৪ অক্টোবর। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই শনিকে পর্যবেক্ষণের ভালো সুযোগ তৈরি হবে এবং অক্টোবরের শুরুতে এটি আরও অনুকূল অবস্থানে থাকবে। টেলিস্কোপের সাহায্যে শনির বিখ্যাত বলয় দেখা যেতে পারে। পর্যাপ্ত মানের টেলিস্কোপে শনির সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটানও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তবে খালি চোখে বা সাধারণ বাইনোকুলারে শনির বলয় স্পষ্ট দেখা যাবে না বলে জানিয়েছে নাসা । এদিকে সেপ্টেম্বরের অন্যতম আকর্ষণ হবে ২৬ সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমা। উত্তর গোলার্ধে সেপ্টেম্বরের এই পূর্ণিমাকে ‘হারভেস্ট মুন’ বলা হয়। সেপ্টেম্বরের ২৫ ও ২৭ তারিখ রাতেও চাঁদকে প্রায় পূর্ণ দেখাবে।

এর পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের আকাশে শরৎকালীন নক্ষত্রমণ্ডল ও অন্ধকার, আলো দূষণমুক্ত স্থান থেকে ছায়াপথ পর্যবেক্ষণের সুযোগও থাকবে। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে পরিষ্কার আকাশে তাকালে অসংখ্য নক্ষত্রের পাশাপাশি মিল্কিওয়ের আবছা আলোকচ্ছটাও চোখে পড়তে পারে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিক করেছে নাসা ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো চন্দ্রগ্রহণ নেই। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণটি হয়েছে আগস্ট ২৭–২৮ তারিখে, যা ছিল আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। তাই সেপ্টেম্বরের এই পাক্ষিকের মহাজাগতিক তালিকায় চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না৷ সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরের শেষার্ধে রাতের আকাশ হতে যাচ্ছে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। আর শনির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সময়টি সামনে রেখে ৪ অক্টোবরের অপজিশনের দিকে নজর রাখতে পারেন আকাশপ্রেমীরা।