রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাবেদ আহামেদ (৫১) নামে এক মার্কেটিং কনসালটেন্টের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কে আবেশ হোটেলের পেছনে একটি সেতুর নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়।

ধানমন্ডি থানার এসআই এস এম আব্দুল গফুর জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লেকের পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে জাবেদের স্ত্রী শাহানা জাবিন খান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে জাবেদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, জাবেদ পেশায় মার্কেটিং কনসালটেন্ট ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বেকার ছিলেন এবং আর্থিক সমস্যার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ পরিস্থিতির সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জাবেদ আত্মহত্যা করেছেন, দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে মারা গেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে কোনোটিই এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর পেছনে হত্যার কোনো আলামত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সুরতহাল প্রতিবেদনে জাবেদের অণ্ডকোষ অস্বাভাবিকভাবে ফোলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তার স্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে অসুস্থতার কারণে তার ওই শারীরিক সমস্যা ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাবেদের স্থায়ী ঠিকানা বনানীর ১৩ নম্বর সড়কের ১২২ নম্বর বাসা। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৫৫৬/৬৭ নম্বর বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন আহামেদ। জাবেদের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।