সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলাটি অধিকতর ও গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ডিবিতে হস্তান্তর ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া হাতে নেওয়ার পর এখন থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে ডিবি পুলিশের টিম সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
এর আগে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান মামলার স্থানান্তরের বিষয়ে জানান, ঘটনার সার্বিক গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে মামলাটি শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ডিবি পুলিশের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সকল কার্যক্রমও এখন থেকে গোয়েন্দা পুলিশই পরিচালনা করবে।
মামলার আসামিও বাদীপক্ষের বক্তব্য উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা প্ররোচনার এই মামলাটি দায়ের করেন নিহত মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ। এতে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের নিজের মামা ওবায়দুর রহমানকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণ ও নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে হতভাগ্য মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “তারা সবাই মিলে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আমার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ওবায়দুর রহমান একজন পেশাদার ক্রিমিনাল, ও-ই এই ঘটনার মূল নায়ক। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা করে সবকিছু ঘটিয়েছে এবং আমাদের পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। আমি ওবায়দুরের চরম শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি চাই।”
সুইসাইড নোট ও সিআইডি ফরেনসিক পরীক্ষা মামলা দায়েরের পর থেকেই মূল অভিযুক্ত আসামি ওবায়দুর রহমান আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে, মরিয়মের মৃত্যুর পরপরই ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উদ্ধারকৃত নোটের লেখাটি কোনোভাবেই মরিয়মের নিজের হাতের লেখা নয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা সুইসাইড নোটটি প্রকৃতপক্ষেই মরিয়মের হস্তাক্ষর কি না, তা সিআইডির (CID) ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।