মাদ্রিদ ডার্বি মানেই উত্তাপ, উত্তেজনা আর বিতর্কের ফুলঝুরি। তবে এবার যেন সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল রেফারিকে নিয়ে করা বিতর্ক। অ্যাথলেটিকোর কাছে ২-১ গোলে হারের পর রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মোরিনহো। তার অভিযোগ - ম্যাচে অ্যাথলেটিকোর দুই খেলোয়াড়ের দেখা উচিত ছিল লাল কার্ড।
ম্যাচের উত্তাপ অবশ্য গোলের আগেই ছড়িয়ে পড়ে মাঠজুড়ে। প্রথমার্ধে জুড বেলিংহামের হাঁটুতে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর বুট লাগার ঘটনায় প্রথমে বেলিংহামকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলে কার্ডটি তুলে নেওয়া হলেও রোমেরোকে দেওয়া হয় হলুদ কার্ড। মোরিনহোর চোখে সেখানে হলুদ নয়, সরাসরি লাল কার্ডই প্রাপ্য ছিল।
আর এই বিতর্ক থামার আগেই ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এবার ফেদেরিকো ভালভার্দের গোড়ালিতে লি কাং-ইনের বুট লাগানো ট্যাকল নিয়েও ওঠে প্রশ্ন। রেফারি সেখানেও লাল কার্ড তো দূরের কথা, কোনো কার্ডই দেখাননি। রিয়ালের অভিযোগ, এই দুটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথই বদলে দিয়েছে। রেফারিং কমিটিও পরে লি কাং-ইনের ট্যাকলটি লাল কার্ডের যোগ্য ছিল বলে মত দিয়েছে।
কিন্তু নাটকের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। এবার লাল কার্ডের শিকার রিয়াল মাদ্রিদ। পেনাল্টি এরিয়ায় সিমিওনেকে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন ডিন হুইসেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে অ্যাথলেটিকোকে এগিয়ে দেন আলেক্স গ্রিমালদো, এরপর জোনাথন ডেভিডের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ। অর্থাৎ যেই রিয়াল ভেবেছিল প্রতিপক্ষের দুই লাল কার্ডে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারত, তারাই মুহূর্তে দশজনের দলে পরিণত।
সেখান থেকেই মোরিনহোর ক্ষোভ যেন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হাতে দুটি ছবির কাগজ তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, রোমেরো ও লি কাং-ইনকে লাল কার্ড দেখানো হলে প্রায় ৫০ মিনিটে এগারোজনের বিপক্ষে নয়জনকে খেলতে হতো অ্যাথলেটিকোকে। তাই ম্যাচের ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রেফারিং নিয়েই সরাসরি আঙুল তুলেছেন দ্য স্পেশাল ওয়ান।
শেষ পর্যন্ত রুডিগারের ৮৯ মিনিটের হেডে ম্যাচে ফেরার আভাস পেলেও সমতা ফেরাতে পারেনি রিয়াল। ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অ্যাথলেটিকো। তাই আজ মাদ্রিদ ডার্বি আবারও প্রমাণ করল - এই লড়াই শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল নয়, এটি আবেগ, আগুন আর বিতর্কেরও নাম।