জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল ও উপস্থাপক সামিয়া আফরিন বর্তমানে লড়াই করছেন মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিচ্ছেন কেমোথেরাপি। চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁর মাথার চুল পড়ে যেতে পারে। এবার চিকিৎসার সেই পর্যায়ে এসে নিজের মাথার চুল সাহসিকতার সঙ্গে নিজেই ফেলে দিয়েছেন সামিয়া।

ন্যাড়া মাথার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। সামিয়া বলেন, জীবনে আবার এমন একটা সময় আসবে, যখন তাঁর মাথা পুরোপুরি ন্যাড়া হয়ে যাবে—এটা তিনি কখনো ভাবেননি। ছোটবেলায় হয়তো এমন হয়েছিল, কিন্তু তখন বিষয়টি নিয়ে ভাবার বয়স ছিল না। বড় হয়ে কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া এভাবে চুল হারানোর অভিজ্ঞতা খুব কম মানুষেরই হয়।

তবে এই পরিবর্তনকে নিজের কষ্টের বিষয় হিসেবে আটকে না রেখে বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করছেন সামিয়া। তাঁর মতে, জীবনের সব পরিবর্তন আমাদের পছন্দ অনুযায়ী আসে না। কিছু বিষয় আমাদের ভালো না লাগলেও মেনে নিতে হয়, আর কঠিন পরিবর্তনগুলোকেও একসময় আপন করে নিতে হয়।

সামিয়ার কাছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞাও শুধু চুল বা আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চুল থাকুক কিংবা না থাকুক, নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারাটাই তাঁর কাছে আসল সৌন্দর্য। তাই ন্যাড়া মাথার এই নতুন চেহারাকেও জীবনের একটি গল্প হিসেবে দেখছেন তিনি। যে গল্পে রয়েছে কঠিন সময়ের পাশাপাশি সাহস, গ্রহণ করে নেওয়া এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা।

আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামিয়া জানিয়েছেন, ন্যাড়া মাথায় নিজের এই রূপ নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র সংকোচ নেই। জীবনের প্রতিটি রূপের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, এই কঠিন সময়ও একদিন কেটে যাবে।

সামিয়ার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই অবশ্য নতুন নয়। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এই রোগের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের দিকে শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর পর তাঁর কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে।

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান সামিয়া। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শুরু হয় তাঁর চিকিৎসা। দীর্ঘ চিকিৎসার পর একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনেও ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।চলতি বছর প্রায় তিন মাস আগে দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর শরীরে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয়। এবার তাঁর ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে।

এরপর অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে সেই চিকিৎসার অংশ হিসেবেই কেমোথেরাপি নিচ্ছেন সামিয়া আফরিন। কঠিন এই সময়েও নিজের নতুন রূপকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করে তিনি যেন একটি কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন—জীবনের প্রতিটি পরিবর্তন সহজ নয়, কিন্তু নিজের প্রতি ভালোবাসা আর সাহস থাকলে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়েও সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়।