প্রয়োজনই উদ্ভাবনের জননী। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় যখন বাড়ছে তাপমাত্রা, তখন সেই চ্যালেঞ্জকেই সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক।
তীব্র গরমে অনেক সবজির উৎপাদন ব্যাহত হলেও লাউয়ের ফলন ধরে রাখার লক্ষ্যেই হাবিপ্রবির কৃষি অনুষদের জেনেটিক্স ও প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগে হয়েছে এই গবেষণা। পিএইচডি গবেষণায় মো. শফিকুল ইসলাম ৫৮টি লাউয়ের জেনোটাইপের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ও তাপসহনশীলতা যাচাই করে নির্বাচন করেছেন পাঁচটি সম্ভাবনাময় হাইব্রিড।
এই পাঁচ হাইব্রিডের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রতিকূল পরিবেশেও লাউয়ের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখাই ছিল গবেষণার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে এসব হাইব্রিডকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও উন্নত জাত উদ্ভাবনের পথ তৈরি করতে চেয়েছেন গবেষক।
আর গবেষণার এই সাফল্য সামনে এসেছে পিএইচডির চূড়ান্ত ডিফেন্স সেমিনারে। মঙ্গলবার হাবিপ্রবির কৃষি অনুষদের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষক, গবেষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গবেষণার ফলাফল নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরাও।
গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাপসহনশীল সবজি জাত এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তাঁর মতে, নির্বাচিত পাঁচটি হাইব্রিড ভবিষ্যতে উন্নত জাত উদ্ভাবনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ গবেষণাগারের এই সাফল্য একসময় মাঠের কৃষকের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।
তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না গবেষক মো. শফিকুল ইসলাম। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সামনে গবেষণার এই ধারাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। আর হাবিপ্রবির উপাচার্যও বলছেন, শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ুর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে দরকার এমনই সময়োপযোগী উদ্ভাবন। গরম যতই বাড়ুক, ফসলের মাঠ যেন থেমে না যায় - হাবিপ্রবির তাপসহনশীল হাইব্রিড লাউয়ের গবেষণা সেই পথেই দেখাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন সবুজ সংকেত।