কালো রঙ, মিষ্টি স্বাদ আর রসে টইটম্বুর কাণ্ড - দেখতে ব্যতিক্রমী, সম্ভাবনাতেও অনন্য ‘ব্ল্যাক সুগারকেইন’। গাজীপুরের মাটিতে এই ফিলিপাইনের কালো আখ এখন কৃষকের মুখে ফুটাচ্ছে নতুন আশার হাসি। দীর্ঘদিন লোকসান, উৎপাদন খরচ আর চিনিকলের কাঁচামাল সংকটে আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়েছিলেন অনেক কৃষক।

ঠিক সেই সময়ে নতুন জাত বিএসআরআই আখ-৪৯ হয়ে এসেছে সম্ভাবনার নতুন বার্তা। কালিয়াকৈরের সাকাশ্বর মধ্যপাড়ায় বসুন্ধরা এগ্রো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের গবেষণা মাঠে চলছে এই জাতের সফল চাষ। গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ ফলন - সঠিক পরিচর্যায় প্রতি বিঘায় পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ টন আখ।

ফলনের সঙ্গে মুনাফার হিসাবটাও বেশ আকর্ষণীয়। প্রথম বছরে বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, বিপরীতে বিক্রি হতে পারে ১ লাখ ৭০ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ফলে কৃষকের ঘরে আসতে পারে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা নিট লাভ।

তবে কালো আখের আসল চমক যেন এখানেই নয়। প্রথমবার কাটার পর গোড়া থেকেই গজায় ১০ থেকে ১৫টি নতুন চারা - যাকে বলা হয় রেটুন বা মুড়ি আখ। ফলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে নতুন করে চারা ও জমি তৈরির খরচ না থাকায় লাভ উঠতে পারে দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার কাছাকাছি।

শুধু মাঠের ফসল নয়, এই আখ ঘিরে তৈরি হচ্ছে বড় শিল্প সম্ভাবনাও। প্রায় ৪শ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক চাষের পরিকল্পনার পাশাপাশি আখ থেকে জুস, উন্নতমানের গুড় ও কাগজ শিল্পের কাঁচামাল তৈরির উদ্যোগ রয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে এসব পণ্য যেতে পারে বিদেশের বাজারেও।

তবে সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ। এসব নিশ্চিত করা গেলে গাজীপুরের কালো আখ শুধু কৃষকের ভাগ্যই বদলাবে না বরং দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও খুলে দিতে পারে নতুন এক দুয়ার।