আর্জেন্টিনা দলের হয়ে আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসি বিদায় জানিয়েছেন মাত্র কিছুদিন হলো। তার হঠাৎ বিদায়ে ফুটবলবিশ্বে নেমে এসেছিল ঘোর অমানিশা। তবে যে মেসি আর্জেন্টিনা দলকে এত কিছু এনে দিয়েছেন, যে মেসি আলবিসেলেস্তেদের নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়, সেই মেসিকে এমন ছন্নছাড়াভাবে কিভাবেই বা বিদায় দিতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন? তাই তো তাকে জনসম্মুখে রাজকীয় বিদায় দিতে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মেসি কেবল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলেরই নন, মেসি মানেই যেন বিশ্ব ফুটবলে এক আবেগের নাম। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল ফুটবল বিশ্বের এই জাদুকরের। মাত্র ১৮ বছর বয়সে আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠে নামা সেই খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয় মাত্র ৪৭ সেকেন্ড পরই লাল কার্ড দেখে। তবে সেদিন কে জানত, এই লাল কার্ড পাওয়া ব্যক্তিই হতে যাচ্ছেন পরবর্তী ফুটবল প্রজন্মের কাছে এক নক্ষত্রের নাম!

২০০৫ সালে জাতীয় দলে মেসির অভিষেক হলেও তারকা খ্যাতি আসতে শুরু করে ২০০৭ সাল থেকে। সে বছরের মার্চে মাত্র ১৯ বছর বয়সে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন তিনি। এর ঠিক এক মাস পর, গেতাফের বিপক্ষে মাঝমাঠ থেকে একাই ৫-৬ জন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার শতকের সেরা গোলটির মতোই একটি রূপকথার গোল করেন মেসি। এই দুটি ঘটনা তাকে রাতারাতি বিশ্বব্যাপী সুপারস্টারে পরিণত করে। ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। ২০০৮ সালে রোনালদিনহো বার্সেলোনা ছাড়ার পর ক্লাবটির প্রধান তারকা হয়ে ওঠেন মেসি। এরপর ২০০৯ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জয় করে বিশ্বজুড়ে নিজের তারকা খ্যাতিকে আরও পোক্ত করেন তিনি।মেসির পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে রয়েছে অসংখ্য সাফল্য আর অর্জনের কৃতিত্ব। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের মহারণে পুরো বিশ্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মাঝে এক ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও মেসির পায়ের জাদু ভালোবেসেছেন প্রতিপক্ষের সমর্থকরাও। ফুটবলে তার ড্রিবলিং, পাসিং, প্লেমেকিংসহ অসাধারণ সব দক্ষতা দিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।তবে যে মানুষটি তার পায়ের জাদুতে নিজেকে এবং নিজের দেশকে এত উপরে তুলে ধরেছেন, তার এমন বিদায় কি মেনে নিতে পারেন ফুটবলপ্রেমীরা? তাই তো এবার সেই আক্ষেপ দূর করতে বড় এক বিদায়ের আয়োজন করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

যার হাত ধরে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি ঘরে তুলেছে আর্জেন্টিনা, যার পায়ের জাদুতে বদলে গেছে আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাস, সেই লিওনেল মেসিকে বিদায়টা যে রাজকীয়ই হতে হবে। তাই জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। জনসম্মুখে মেসিকে সম্মান জানাতে মাঠেই আয়োজন করা হবে বিশেষ বিদায় সংবর্ধনার। যেখানে মাঠে না খেললেও মেসিকে শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সিতে দেখতে মুখিয়ে থাকবেন লাখো সমর্থক। দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার আগে এমন বিদায়ই যেন প্রাপ্য আর্জেন্টিনার এই মহাতারকার।