ছয় ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতা, গোলপোস্টের নিচে বাড়তি উপস্থিতি - বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন মুখ সাইফ কেরাওয়ালা। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসে প্রথম সুযোগেই জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে। ডাক পেয়েছেন আসন্ন আসিয়ান কাপের স্কোয়াডে, আর এখন অপেক্ষা অভিষেকের মঞ্চে নামার। অর্থাৎ বাংলাদেশে পা রাখার পরই সাইফের ক্যারিয়ারে খুলে গেছে নতুন এক দরজা।
সাইফের এই যাত্রার শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের মাটিতে নয়, প্রবাসের ফুটবলেই গড়ে উঠেছে তার পথচলা। দীর্ঘদেহী এই গোলরক্ষকের উচ্চতা যেমন বাড়তি সুবিধা, তেমনি গোলবারের নিচে তার দক্ষতাও নজর কেড়েছে কোচের। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই এবার জাতীয় দলের দরজা খুলেছে তার জন্য। আর জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবারের মতো নিজেকে মেলে ধরার অপেক্ষায় সাইফ।
তবে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবর এলেও, বাকি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি আনুষ্ঠানিকতা - বাংলাদেশি পাসপোর্ট। সাইফের হাতে শুক্রবার উঠতে যাচ্ছে সেই কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট। আর পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই, কারণ পরদিনই তার গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া। সেখানেই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে শুরু করবেন আসিয়ান কাপের মিশন।
অর্থাৎ শুক্রবার পাসপোর্ট, শনিবার বিমানে, এরপর সরাসরি জাতীয় দলের ক্যাম্প - সময়টা সাইফের জন্য যেন স্বপ্নের মতো। প্রথমবার বাংলাদেশে এসে জাতীয় দলের ডাক, তারপর দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নামার হাতছানি। সবকিছু মিলিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে এই গোলরক্ষক।
একজন নতুন গোলরক্ষকের জন্য জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়া যেমন স্বপ্নপূরণ, তেমনি শুরু হতে পারে আরও বড় গল্পের। বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী প্রতিভাদের আগমন নতুন কিছু নয়, তবে প্রথমবার দেশে এসেই জাতীয় দলের সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আলাদা। সাইফ কেরাওয়ালার ক্ষেত্রেও তাই প্রত্যাশার পারদটা এখন বেশ উঁচুতে।ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে সেই প্রত্যাশার কতটা পূরণ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।