চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সম্প্রতি অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্ব পদে পুনর্বহালের একদফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক তীব্র অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের চলমান এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ সংগঠন।
গণস্বাক্ষর ও অভিনব প্রতিবাদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সায়েম স্যারকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের রাজপথের আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
দাবি আদায়ের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসে এক বিশাল গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট কথা, “আমাদের দাবি একটাই—সায়েম স্যারকে ভিসি হিসেবে পুনর্বহাল করা। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।”
প্রতিবাদের মধ্যেই অবরুদ্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সময় কাটাতে দেখা গেছে।
সঙ্কট নিরসনে সার্কিট হাউজে বৈঠক এদিকে চুয়েটের এই চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়। চলমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতি কীভাবে প্রশমিত করা যায়, বৈঠকে মূলত সেই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনার কথা রয়েছে।
পটভূমি ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত সোমবার তাঁকে হঠাৎ অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
উপাচার্যকে অপসারণের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে সোমবার রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করা হয়। আজ দ্বিতীয় দিনেও সেই একই কর্মসূচি চলায় পুরো চুয়েট ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে।