শীতের হাওয়া আসতে এখনো বাকি বেশ কিছুদিন। অথচ তার আগেই সবুজের চাদরে ঢেকে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ মাঠ। আশ্বিনের শুরুতেই মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটোসহ নানা আগাম শীতকালীন সবজির আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক প্রযুক্তি আর কৃষি বিভাগের পরামর্শে আগাম সবজি চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছেন তারা। 

সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে অবশ্যই আছে ভালো দামের প্রত্যাশা। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে নতুন সবজি তুলতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় দাম পাওয়া যায় কয়েকগুণ বেশি। তাই কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে ছুটছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ, আবার কেউ ব্যস্ত আগাছা পরিষ্কার ও রোগবালাই দমনে। 

আর এ ব্যস্ততার ছাপ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল, ধনবাড়ি ও সখীপুরের পাহাড়ি এলাকা এবং যমুনা-ধলেশ্বরীর চরাঞ্চলে। উর্বর মাটি ও অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এসব অঞ্চলে বাড়ছে আগাম সবজির আবাদ। শুধু পুরুষ নয়, চারা উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিচর্যায় সমানতালে কাজ করছেন গ্রামীণ নারীরাও। 

এবার সেই সম্ভাবনার বাস্তব চিত্র মেলে মধুপুরের দরিহাসিল গ্রামের কৃষক রায়হান কাজীর ক্ষেতে। ৭০ শতাংশ জমিতে ক্যাপটেন ও উইনার জাতের প্রায় ১৬ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে এক লাখ টাকার কিছু বেশি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দুই মাস পর ফসল বিক্রি করে খরচ বাদে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন এই কৃষক। 

তবে শুধু ফুলকপি নয়, আগাম শিম ও লাউ নিয়েও আশাবাদী ঘাটাইলের কৃষকরা। সাগরদিঘীর ফুলমালীর চালা গ্রামের রফিকুল ইসলাম প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে এসব সবজি চাষ করেছেন। গাছে ইতোমধ্যে ফল আসতে শুরু করেছে। এখন তার প্রত্যাশা - ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারেও মিলবে কাঙ্ক্ষিত দাম। 

কৃষকের এই আশার পেছনে কাজ করছে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতাও। মধুপুরে প্রণোদনার মাধ্যমে দুই হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির মাঠ প্রদর্শনী করা হয়েছে। কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ, সার ও অন্যান্য সহযোগিতা। একইসঙ্গে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজি উৎপাদনের বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে তাদের। 

আর এই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর পুরো জেলায় শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্য প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ২২০ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেই লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি আগাম সবজির হাত ধরে বদলে যেতে পারে বহু কৃষকের ভাগ্যের চিত্র। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে টাঙ্গাইলের এসব সবজি ছড়িয়ে পড়বে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে - এমন প্রত্যাশাই এখন কৃষকের চোখে-মুখে।