রিয়াল মাদ্রিদ মানেই যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা, তারপরই গল্পের মোড় বদলে দেওয়া। পুরোনো সেই কামব্যাকের ইতিহাসকে আবারও যেন নতুন করে লিখল লস ব্লাঙ্কোস। এলকের বিপক্ষে শুরুতে ২-০ লিড নিয়েও শেষে ম্যাচ যখন ২-২, তখন মনে হচ্ছিল পয়েন্ট ভাগাভাগিই বুঝি নিয়তি। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসল মাদ্রিদই, যোগ করা সময়ে কার্লোস এস্পির গোলে ৩-২ জয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য নিয়ন্ত্রণ ছিল রিয়ালের পায়ে। আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আরদা গুলের উপস্থিতিতে এলকের রক্ষণে তৈরি হচ্ছিল একের পর এক চাপ। তবে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ২৫ মিনিট পর্যন্ত। আরদা গুলারের ফ্রি-কিক থেকে আসা বল নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন এলকের গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরো - নিজেদের ভুলেই পিছিয়ে যায় এলকে।
লিড পাওয়ার পরও থামেনি রিয়াল। বরং আক্রমণের ধার আরও বাড়তে থাকে। ৩৩ মিনিটে সেই চাপেরই ফল - ইয়ান দিয়োমান্দের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র ৩৩ মিনিটেই ২-০ এগিয়ে রিয়াল, আর প্রথমার্ধ শেষ হয় মাদ্রিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। তবে ফুটবলের গল্প যে কখনো একরৈখিক নয়, সেটাই প্রমাণ হওয়ার অপেক্ষা ছিল দ্বিতীয়ার্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের সুর। প্রথমার্ধের দাপট ধরে রাখতে না পেরে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে রিয়াল, আর সেই সুযোগেই ম্যাচে ফেরার রাস্তা খুঁজতে থাকে এলকে। ৭১ মিনিটে লুকাস সেপেদার ক্রস থেকে আবিয়েল ওসোরিওর গোলে ব্যবধান কমে আসে ২-১। মুহূর্তেই ম্যাচে ফিরে আসে উত্তেজনা, আর রিয়ালের দুই গোলের স্বস্তি পরিণত হয় এক গোলের অস্বস্তিতে।
তবু এখানেই শেষ নয় বরং নাটকের সবচেয়ে বড় অধ্যায় তখনও বাকি। ৮৩ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে ফার নিনো গোল করলে ২-২ সমতা ফেরায় এলকে। মাত্র কিছুক্ষণ আগেও দুই গোল পিছিয়ে থাকা দলটি তখন সমতায়, আর রিয়াল মাদ্রিদের সামনে একটাই প্রশ্ন - হারানো তিন পয়েন্ট কি আবার শেষ মুহূর্তে উদ্ধার করা সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তরও দিল মাদ্রিদ তাদের পুরোনো কায়দায় শেষ মুহূর্তে। ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই বদলি খেলোয়াড় কার্লোস এস্পি হয়ে উঠলেন ম্যাচের নায়ক। কিলিয়ান এমবাপ্পের সহায়তায় বক্সের ভেতর থেকে বল জালে জড়িয়ে ৩-২ করেন এস্পি। মাত্র কয়েক মিনিট আগেও যেখানে দুই পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা, সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। আর এস্পির জন্যও রাতটি বিশেষ - রিয়ালের হয়ে তার দুই গোলই এসেছে দেরিতে, এবং দুটিই দলের জয়ের পথ খুলে দিয়েছে।
এলকে ভেবেছিল দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়বে, কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের গল্পে শেষ বাঁশির আগে কিছুই শেষ নয়। ২-০ থেকে ২-২, তারপর ৯১ মিনিটে ৩-২ - এটাই যেন রিয়ালের পুরোনো পরিচয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করা। আর এলকের মাঠে আরও একবার প্রমাণ হলো - মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত জয়কে নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।