এ দেশের পরিবেশ দূষণের জন্য আসলে দায়ী কে এটা নিয়ে বিতর্ক করতেই পারেন। কিন্তু একটু ভেবে দেখলে উত্তরটা খুব কঠিন নয়। দায়টা শুধু সরকারের নয়, আমি, আপনি আমরা সবাই এই দূষণের জন্য কমবেশি দায়ী। অথচ দিন শেষে সেই দায়ভারটাই গিয়ে পড়ে সরকারের ঘাড়ে। রাজধানীর কোনো খাল যখন ময়লা-আবর্জনায় ভরে যায়, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ তখন আমরা কী করি? নাক বন্ধ করে সেখান থেকে পাশ কাটিয়ে চলে যাই। অথচ একবারও কি ভেবে দেখি, এই ময়লাগুলো সেখানে ফেলল কে?
আমরা নিজেরাই যখন যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলি, তখন সেই জায়গা পরিষ্কার করা, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশকে আবার বসবাসযোগ্য করে তোলার দায়িত্বটা শেষ পর্যন্ত আমরা কেউই নিতে চাইনা । আর ঠিক এখানেই সামনে আসে দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি। শুধু সমস্যার কথা বলা নয়, সমস্যাটা যেখানে তৈরি হয়েছে, সেখানে গিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াটাই সব চেয়ে বড় উদ্যোগ , যে উদ্যোগকে সামনে রেখে একদল কাজ করে যাচ্ছে নিরলস ভাবে ।
এরই একটি উদাহরণ রাজধানীর উত্তরা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলফাজ উদ্দিনের উদ্যোগে তুরাগ নদীর পাড় থেকে দক্ষিণ মেট্রো পর্যন্ত এলাকায় চলছে খাল পরিষ্কার কার্যক্রম। এই কার্যক্রমে শুধু কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে মাঠে নেমেছেন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বেচ্ছায় খাল থেকে অপসারণ করছেন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। অর্থাৎ, যে জায়গাটা বছরের পর বছর ময়লা-আবর্জনায় ভারী হয়ে উঠেছিল, সেটাকেই আবার নতুন করে প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কারণ একটা বিষয় মনে রাখা দরকার জনগণ যেখানে অপরিষ্কার করছে , সেখানেই আবার কাউকে না কাউকে দাঁড়িয়ে সেই জায়গাটা পরিষ্কারও করতে হচ্ছে। প্রকৃতির ওপর আমরা যে ক্ষত তৈরি করছি, সেটাকে সারানোর দায়িত্বও শেষ পর্যন্ত অন্য কারও কাঁধে তুলে দিচ্ছি। তাই শুধু প্রশ্ন করলেই হবে না সরকার কেন পরিষ্কার করছে? সিটি কর্পোরেশন কেন করছে? কে দায়িত্ব নেবে? প্রশ্নটা আমাদের নিজেদের কাছেও থাকা দরকার আমি যে ময়লাটা খালে ফেলছি, সেটা যদি না ফেলতাম, তাহলে কি এই খাল পরিষ্কারের প্রয়োজনটাই এতটা তৈরি হতো?
পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, কোনো একক প্রতিষ্ঠানেরও নয়। সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে, জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নেবেন, বিভিন্ন সংগঠন মাঠে নামবে কিন্তু নোংরা না করার দায়িত্বটা আমার, আপনার, আমাদের সবার। কারণ একটি খাল পরিষ্কার করতে যত সময়, শ্রম আর অর্থ লাগে, তার চেয়ে অনেক সহজ খালটাকে নোংরা না করা। আর সেই জায়গা থেকেই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় বার্তা শুধু অভিযোগ নয়, দায়িত্ব নিতে হবে শুধু পরিবর্তনের দাবি নয়, পরিবর্তনের অংশও হতে হবে। এমনই আসা ব্যাক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।