কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নামে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সময় তার বাবা বরকত উল্লাহ এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ বর্তমানে সাঁকো দিয়ে গড়াই নদী পারাপার করেন। তাদের দুর্ভোগ কমাতে আবরারের নামে সেখানে একটি সেতু নির্মাণের অনুরোধ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তার বাবা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি
সাক্ষাৎকালে আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বরকত উল্লাহ। তিনি জানান, মামলার এক আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল।
কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনও গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান আবরারের বাবা।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
‘আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়’
সাক্ষাতে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেক ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীর পেছনে একটি পরিবার ও মা-বাবা রয়েছে। তার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন সন্তানের জন্য খালি না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
বুয়েটে হল ও পাঠ্যবইয়ে আবরারের ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবি
সাক্ষাতে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।
নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদ সম্পর্কে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনার অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান আবরার ফাইয়াজ।
এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নিহত ব্যক্তিদেরও একটি তালিকা করার দাবি জানান তিনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কাজ চলছে।
সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, আবরার ফাহাদের মামা ও এক চাচাও উপস্থিত ছিলেন।