ড্রাইড ফ্রুটস বা শুকনো ফল এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় বেশ জনপ্রিয়। ওটস, দই কিংবা বাদামের সঙ্গে কিশমিশ, খেজুর, শুকনো এপ্রিকট ও বিভিন্ন শুকনো বেরি খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তবে শুকনো ফলে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি ঘন হয়ে থাকে বলে অতিরিক্ত খেলে ওজন ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। তাই উপকার পেতে হলে পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

ফিটনেস পুষ্টিবিদ রাইসা মেহজাবীনের মতে, ফল শুকানোর সময় এর বেশির ভাগ পানি সরিয়ে ফেলা হয়। এতে ফলের আকার ছোট হলেও প্রাকৃতিক চিনি, ক্যালরি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ঘনীভূত হয়। ফলে তাজা ফলের তুলনায় শুকনো ফল বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলা সহজ। উদাহরণ হিসেবে কিশমিশের কথা বলা যায় অল্প পরিমাণ কিশমিশেই অনেক বেশি আঙুরের উপাদান ঘনীভূত থাকে। তাই এক কাপ তাজা ফল ও এক কাপ শুকনো ফলের পুষ্টিমান সরাসরি তুলনা করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

তবে সব ড্রাইড ফ্রুটস সমান নয়। বাজারে পাওয়া কিছু শুকনো ফলে স্বাভাবিক চিনির পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়। চিনি মেশানো ক্র্যানবেরি বা ক্যান্ডিড ফ্রুটস এ ক্ষেত্রে উদাহরণ। তাই প্যাকেটজাত শুকনো ফল কেনার সময় লেবেল দেখে 'unsweetened' বা অতিরিক্ত চিনি ছাড়া পণ্য বেছে নেওয়া ভালো। কিছু পণ্যে সংরক্ষণের জন্য সালফাইটও ব্যবহার করা হয়, যা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, পরিমিত পরিমাণে চিনি না মেশানো শুকনো ফল খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের উৎস হতে পারে। কিশমিশ, শুকনো এপ্রিকট, প্রুন ও বিভিন্ন শুকনো বেরি খাবারের পুষ্টিমান বাড়াতে পারে। খাদ্যআঁশ থাকায় এগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট ও পরিমাণ বিবেচনা করে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণভাবে একবারে প্রায় ২০–৩০ গ্রাম, অর্থাৎ ছোট এক মুঠো শুকনো ফল খাওয়া যেতে পারে। এক প্যাকেট খুলে সরাসরি খাওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ আলাদা করে নেওয়া ভালো। ওটস, দই বা বাদামের সঙ্গে অল্প পরিমাণে যোগ করেও খাওয়া যায়। তবে ড্রাইড ফ্রুটসকে তাজা ফলের সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে না দেখে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া সবচেয়ে ভালো।