প্রতিদিনের খাবারে কাঁচা রসুন যোগ করা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রসুনে থাকা অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন সালফারযুক্ত যৌগকে এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন গ্রহণের সঙ্গে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও কিছু হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি-সূচকের উন্নতির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব গবেষণার অনেকগুলোতেই কাঁচা রসুনের বদলে রসুনের বিভিন্ন প্রস্তুতি বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রসুনের সম্ভাব্য উপকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে রসুন গ্রহণের পর সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কিছুটা কমার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মোট কোলেস্টেরল ও এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রাতেও সামান্য উন্নতি দেখা গেছে। তবে রসুন খেলে সরাসরি হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায় এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সীমিত।

রসুনের আরেকটি সম্ভাব্য উপকার হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। রসুনে থাকা কিছু উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে গ্যাস, বদহজম বা কোষ্ঠকাঠিন্য সারানোর নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে কাঁচা রসুনকে ব্যবহার করার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও রসুন নিয়ে ইতিবাচক কিছু গবেষণা রয়েছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি বড় মেটা-অ্যানালাইসিসে রসুন গ্রহণের সঙ্গে রক্তে শর্করা, ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং কয়েকটি প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের সূচকে সামান্য উন্নতি পাওয়া গেছে। তবে গবেষণাগুলোতে রসুনের ধরন, মাত্রা ও ব্যবহারের সময়কাল ভিন্ন ছিল। ফলে প্রতিদিন একটি কোয়া কাঁচা রসুন খেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবার একই ধরনের ফল মিলবে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

তবে কাঁচা রসুন সবার জন্য সমানভাবে সহনীয় নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে বুকজ্বালা, পেটের অস্বস্তি, গ্যাস বা মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। রসুন রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাই রসুনকে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই যুক্তিযুক্ত; কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে কাঁচা রসুনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।