সকালের নাশতায় কলা অনেকেরই পছন্দের খাবার। সহজলভ্য ও দ্রুত খাওয়া যায় বলে ব্যস্ত সময়ে একটি কলা শরীরকে প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি দিতে পারে। কলায় কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি রয়েছে। বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য কলা নিরাপদ হলেও খালি পেটে খেলে সবার শরীরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া নাও হতে পারে।
কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর ফাইবার হজম ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক। কলার ফাইবার কিছুটা সময় পেট ভরা রাখায় অতিরিক্ত ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
তবে শুধু একটি কলাকে পূর্ণাঙ্গ সকালের নাশতা হিসেবে ধরা ঠিক নয়। দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে কলার সঙ্গে বাদাম, দই বা অন্য কোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যোগ করা যেতে পারে। যাদের হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা খাবারে সংবেদনশীলতা রয়েছে, খালি পেটে কলা খেলে তাদের অস্বস্তি হতে পারে। এমন হলে নাশতার সঙ্গে কলা খাওয়াই ভালো।
ডায়াবেটিস থাকলেও কলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিমাণ ও কলার পাকার মাত্রা বিবেচনা করা জরুরি। অন্যদিকে, কিডনির কার্যকারিতায় সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত পটাশিয়াম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এমন ক্ষেত্রে নিয়মিত বেশি পরিমাণ কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সবশেষে বলা যায়, খালি পেটে কলা খেলেই বিশেষ কোনো অতিরিক্ত উপকার পাওয়া যায় এমন শক্ত প্রমাণ নেই; শরীরে অস্বস্তি না হলে পরিমিত পরিমাণে সকালে কলা খাওয়া যেতে পারে।