দীর্ঘ ১৬ মাস কারাবাসের পর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পুলিশের কড়া পাহারায় সদ্যপ্রয়াত মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি হিরো।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ জাহানাবাদ গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাসভবন সংলগ্ন মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুই হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় জানাজায় শরিক হন তিনি।

আবেগঘন পরিবেশে স্বজন ও উপস্থিতদের কাছে আকুতি

জানাজা শুরুর আগে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে মাশরাফি হিরো আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি এখনও জানি না আমার মা কখন মারা গেছেন। আমি হয়তো তাঁকে শেষ দেখা দেখতে পারলাম, কিন্তু তিনি তো আমাকে দেখতে পারলেন না। সন্তান মাকে ভালোবাসুক বা না ভালোবাসুক, মা কিন্তু সন্তানকে ঠিকই চিরদিন ভালোবাসে।”

নিজের অপরিসীম আক্ষেপ প্রকাশ করে এই আওয়ামী লীগ নেতা আরও বলেন, “আমি আমার দায়িত্ব হয়তো সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এ জন্য আজ আমার মায়ের কাছে ক্ষমাও চাইতে পারলাম না। আমার মা অনেক দিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। ওষুধ আর হাসপাতাল করতে করতেই তাঁর পুরো জীবনটা শেষ হয়ে গেছে; অত্যন্ত কষ্টের জীবন তিনি পার করেছেন।”

মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমার মায়ের কোনো কথায় আপনারা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। আর তাঁর কাছে যদি কারও কোনো আর্থিক পাওনা থেকে থাকে, তবে আমাদের জানাবেন, আমরা তা দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা করব।”

জানাজা শেষে পুনরায় ফেরত

জানাজার আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর সময় শেষ হওয়ায় কড়া পুলিশ বেষ্টনীতে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা কারাগারের সুপার আসাদুর রহমান।