হঠাৎ আচরণে পরিবর্তন কি মস্তিষ্কের রোগের ইঙ্গিত?

কোনো সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ যদি হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন, বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। অকারণে রেগে যাওয়া, অতিরিক্ত অস্থিরতা, একটানা না ঘুমানো, কথাবার্তায় অসংলগ্নতা কিংবা আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসব কখনো কখনো মস্তিষ্কের জটিল কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে আগে কোনো মানসিক রোগের ইতিহাস না থাকা ব্যক্তির মধ্যে হঠাৎ এমন পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কোন কোন রোগে এমন হতে পারে?

মস্তিষ্কে প্রদাহ হলে তাকে এনকেফালাইটিস বলা হয়। এই রোগে আচরণে আকস্মিক পরিবর্তনের পাশাপাশি জ্বর, মাথাব্যথা কিংবা খিঁচুনিও দেখা দিতে পারে। অটোইমিউন এনকেফালাইটিসের ক্ষেত্রেও একজন মানুষ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন। আবার মস্তিষ্কের কিছু অংশে স্ট্রোক হলেও আচরণগত পরিবর্তন, ভুলে যাওয়া, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্রেন টিউমারও এমন উপসর্গের কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন বমি হলে শরীরে থিয়ামিনের ঘাটতি তৈরি হয়ে ওয়ারনিক্স এনকেফালোপ্যাথি হতে পারে। এতে রোগীর আচরণ ও চিন্তাভাবনায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। লিভার বা কিডনির গুরুতর সমস্যায় রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। একে যথাক্রমে হেপাটিক ও ইউরেমিক এনকেফালোপ্যাথি বলা হয়। রক্তে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলেও আচরণে পরিবর্তন ঘটতে পারে।

কখন বিষয়টি বেশি গুরুত্বের?

হঠাৎ আচরণ পরিবর্তনের সঙ্গে যদি জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে আগে কোনো মানসিক রোগের ইতিহাস না থাকা ব্যক্তির আচরণ যদি আকস্মিকভাবে বদলে যায়, তাহলে শুধু মানসিক সমস্যা ধরে না নিয়ে শারীরিক ও মস্তিষ্কজনিত কারণও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

কীভাবে রোগ শনাক্ত করা হয়?

চিকিৎসক প্রথমে রোগীর আচরণগত পরিবর্তনের ইতিহাস ও অন্যান্য উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাইবেন। এরপর রক্তে শর্করা, লবণের মাত্রা, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা এবং সংক্রমণের কোনো প্রমাণ আছে কি না এসব পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী মস্তিষ্কের এমআরআই করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ শনাক্ত করতে মেরুদণ্ডের ভেতরের তরল বা সিএসএফ পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই হঠাৎ আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টিকে শুধুই রাগ, মানসিক চাপ বা স্বভাবের পরিবর্তন হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে অন্য শারীরিক বা স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।