শব্দদূষণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিঃ সারাদেশে শব্দদূষণের মাত্রা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও জেলা শহর প্রায় সর্বত্রই সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি শব্দ তৈরি হচ্ছে। গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজ, ইটভাঙার মেশিন, জেনারেটর, কলকারখানা ও মাইকের উচ্চ শব্দে নগরজীবন ক্রমেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। অথচ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচির বাইরে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।

নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে শব্দদূষণঃ মাত্রাতিরিক্ত শব্দ শুধু বিরক্তির কারণ নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘসময় উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে কানে কম শোনা বা বধিরতা, ঘুমের সমস্যা, উৎকণ্ঠা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মানসিক অস্থিরতা ও স্নায়ুচাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিপদ বাড়াচ্ছে যানবাহন ও নির্মাণকাজঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শব্দদূষণের অন্যতম বড় উৎস যানবাহনের হর্ন ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি, ইটভাঙার মেশিন, জেনারেটর ও শিল্পকারখানার শব্দ। ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মার্কেটগুলোতে মাইক ও সাউন্ড বক্সে উচ্চ শব্দে প্রচারণা চালানোর ঘটনাও নিয়মিত দেখা যায়। ফলে উৎসবের সময় অনেক এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

জরিপে ভয়াবহ চিত্রঃ পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপেও উঠে এসেছে শব্দদূষণের ভয়াবহতা। রাজধানীর ফার্মগেটে সর্বোচ্চ শব্দের মাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩০ দশমিক ২ ডেসিবেল। এর আগে ২০১৬ সালে রাজধানীর শংকর এলাকায় সর্বোচ্চ ১১৪ দশমিক ৭ ডেসিবেল শব্দ রেকর্ড হয়েছিল। ঢাকার উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়ক এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৯৯ দশমিক ৬ ডেসিবেল। রাজধানীর বাইরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রাজশাহীর ভদ্রার মোড়ে সর্বোচ্চ শব্দের মাত্রা পাওয়া যায় ১৩২ দশমিক ৮ ডেসিবেল।

সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর বাস্তবায়নঃ সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরিবেশ দিবস পালন, সেমিনার বা সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রয়োজন বিদ্যমান নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে শব্দদূষণের মাত্রা রেকর্ড করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে এই ‘নীরব ঘাতক’ আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।