জাতিসংঘের মঞ্চে এবার শুধু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নয় বিশ্বের ১৯৩টি দেশের সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আর তাঁর সামনে এমন কিছু চ্যালেঞ্জ, যার প্রভাব পড়তে পারে পুরো বিশ্বের ভবিষ্যতের ওপর। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের অগ্রাধিকার ও আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বের মূল ভাবনায় রয়েছে আস্থা পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বকে সামলানো।
কারণ তাঁর ভাষায়, এটা ১৯৪৫ সাল নয়, এটা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন। পৃথিবী বদলে গেছে, তাই সময়ের সঙ্গে জাতিসংঘকেও বদলাতে হবে। তবে সেই পরিবর্তন যেন শুধু কাগজে-কলমে সংস্কার না হয়, বরং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার মতো বাস্তব পরিবর্তন হয় সেদিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। আর এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। প্রযুক্তি যখন মানুষের জীবনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে, তখন এর সুশাসন, মানবাধিকার এবং দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাও জাতিসংঘের সামনে নতুন পরীক্ষা হিসেবে হাজির হয়েছে।
তবে খলিলুর রহমানের এই বৈশ্বিক দায়িত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি গভীর মানবিক অভিজ্ঞতাও জড়িয়ে আছে রোহিঙ্গা সংকট। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে গিয়ে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন রাষ্ট্রহীন মানুষের কষ্ট। তাঁদের ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষাও দেখেছেন। তাই জাতিসংঘে তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে রাষ্ট্রহীন ও পরিচয়হীন মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার বিষয়টিও রয়েছে। তিনি মনে করেন, জাতিসংঘ শুধু সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন নয় এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত সাধারণ মানুষ। তাই মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার দরজা খোলা রাখা, সহযোগিতা বাড়ানো এবং যেখানে সম্ভব সেখানেই অভিন্ন জায়গা খুঁজে বের করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।
আর এই দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসেছেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে এই দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। এবার ড. খলিলুর রহমানের সামনে তাই শুধু একটি এক বছরের দায়িত্ব নয় আন্তর্জাতিক আস্থা, রোহিঙ্গা সংকট, এআইয়ের ভবিষ্যৎ এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বে জাতিসংঘের ভূমিকা সবকিছুকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার বড় এক পরীক্ষা। আর তাঁর বার্তাও পরিষ্কার বিশ্ব বদলে গেছে। তাই মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘকেও সময়ের সঙ্গে বদলাতে হবে।