একটি এলাকার যখন বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, গাছপালা সবকিছু পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে গেছে, ঠিক তারই মাঝখানে অক্ষতভাবে দাঁড়িয়ে আছে একটি বাড়ি। ভয়াবহ দাবানলের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে এমন দৃশ্য কোনো অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম নয়। কিন্তু কীভাবে বেঁচে গেল এই বাড়িটি?আলবেনিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন শহর হিমারে।গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে সেখানে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ দাবানল। মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের বসতবাড়িতে আঘাত হানে এবং অন্তত ছয়টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু আগুন এসে থমকে যায় মারিয়া ও ভাঙ্গেল দম্পতির সীমানার বাইরে!চারপাশের ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হলেও, ঠিক মাঝখানে অক্ষত দাঁড়িয়ে থাকে এই দুইতলা বাড়িটি।

তবে এটি কোনো ভাগ্যের জোরে বা অলৌকিক ঘটনায় রক্ষা পায়নি। এর পেছনে রয়েছে এই দম্পতির বছরের পর বছর ধরে করা অক্লান্ত পরিশ্রম ও আগাম প্রস্তুতি।তারা নিয়মিত তাদের বাড়ির চারপাশের সমস্ত শুকনো ঘাস, পাতা এবং ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার রাখতেন। ফলে আগুন যখন ধেয়ে আসে, তখন বাড়ির সীমানায় কোনো জ্বালানি না পেয়ে তা আর এগোতে পারেনি। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের মাঝে তাদের এই সাধারণ সচেতনতাই আজ বাড়িটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

দক্ষিণ আলবেনিয়ার এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালের দাবানল এক নিয়মিত আতঙ্কের নাম। আর এই ঝুঁকি কাটাতে বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত সচেতনতার সাথে কাজ করে আসছিলেন মারিয়া ও তার স্বামী ভাঙ্গেল। তারা প্রতিদিনই নিজেদের সম্পত্তির সীমানা এবং চারপাশের ঝোপঝাড় ও শুকনো গাছপালা কেটে পরিষ্কার রাখতেন।গত শুক্রবার যখন পুলিশ সবাইকে দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়, মারিয়া ভেবেছিলেন তাদের আজীবনের স্মৃতি জড়ানো বাড়িটি হয়তো আর রক্ষা পাবে না।

অবরুদ্ধ কণ্ঠে মারিয়া জানান পুলিশ সরে যেতে বললে আমরা সুরক্ষার জন্য দরজা খোলা রেখেই বেরিয়ে আসি। আমার মনে হচ্ছিল বাড়িটা পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে বারবার সাহস দিয়ে বলেছিল ভয় পেও না। আমরা আগেই চারপাশটা পরিষ্কার করে রেখেছি। আগুন আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না।"অবশেষে মারিয়ার স্বামীর সেই প্রবল আত্মবিশ্বাসই সত্যি প্রমাণিত হলো। চারপাশে যখন কেবল পুড়ে যাওয়া ছাই আর ধ্বংসাবশেষ, তখন তাদের বাড়িটি নিরাপদে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেও আলবেনিয়ায় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টাতেই দেশটিতে অন্তত ৬৪টি দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই ১২০০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে তাদের সহায়তা দিচ্ছে একাধিক হেলিকপ্টার ও বিশেষ বিমান।প্রকৃতির ভয়াবহতার সামনে যেখানে শত চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে মারিয়া ও ভাঙ্গেলের বছরের পর বছরের সচেতনতা আর পূর্বপ্রস্তুতি প্রমাণ করে দিল সঠিক সময়ে নেওয়া সঠিক পদক্ষেপ আগুনের প্রলয়কেও থামিয়ে দিতে পারে।