বাংলাদেশে ‘এক্সটেনডেড সুইসাইড’ নিয়ে গবেষণা তুলনামূলকভাবে কম। তবে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে করা একটি গবেষণায় সন্তান হত্যার পর আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ২৬টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষণায় এসব ঘটনায় মোট ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের ৪৫ জনই শিশু। বেশির ভাগ ঘটনায় সন্তান হত্যার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট ও দারিদ্র্যজনিত চাপকে কয়েকটি ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা সাধারণ আত্মহত্যার চেয়ে জটিল। তীব্র মানসিক সংকটের সময় কোনো ব্যক্তি নিজের সঙ্গে নির্ভরশীল স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম ও ভ্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন। বিষণ্নতা, সাইকোসিসসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যা এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক জটিলতাও কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যক্তি কখনো মনে করতে পারেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা অসহনীয় পরিস্থিতিতে পড়বেন। এই ধরনের চিন্তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কিন্তু তীব্র মানসিক সংকটের সময় তা ব্যক্তির কাছে সত্য বলে মনে হতে পারে।
প্রতিরোধে প্রয়োজন আগাম সতর্কতা
পরিবারের কারও আচরণে হঠাৎ বড় পরিবর্তন, চরম হতাশা, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বা বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারানোর মতো কথা বলাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে তাকে একা না রেখে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা বিশ্বস্ত সহায়তার কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক stigma কমানো, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পারিবারিক সহিংসতা বা দীর্ঘস্থায়ী কলহের ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চাঞ্চল্যকর উপস্থাপনার পরিবর্তে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা, ঝুঁকির লক্ষণ এবং সহায়তা পাওয়ার পথ সম্পর্কে তথ্য দেওয়াই বেশি কার্যকর।