কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি কিংবা দুশ্চিন্তা আধুনিক জীবনে এসব যেন নিত্যসঙ্গী। তবে এসব থেকে স্বস্তি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্যান বা দীর্ঘ কোনো রুটিন অনুসরণ করা সবসময় প্রয়োজন হয় না। গবেষকদের মতে, দিনের ব্যস্ততার মাঝেই মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের কিছু ছোট মানসিক অনুশীলন বা 'মাইক্রোপ্র্যাকটিস' মন-মেজাজ ভালো করতে এবং ক্লান্তি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই ছোট ছোট অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে লাফটার ইয়োগা বা হাসির অনুশীলন। কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই গভীর শ্বাস নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে হাসি শুরু করা যায়। কিছুক্ষণ পর এই কৃত্রিম হাসিই অনেক সময় স্বাভাবিক হাসিতে পরিণত হয়। গবেষণায় হাসির মতো ইতিবাচক আচরণের সঙ্গে উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন যারা, তাদের জন্য কার্যকর হতে পারে মাইক্রো-স্ট্রেচিং। দুই-তিনবার ধীরে শ্বাস নেওয়ার সঙ্গে বুক ও কাঁধ প্রসারিত করা কিংবা ঘাড় ও পিঠের হালকা স্ট্রেচিং শরীরের জমে থাকা অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। একইভাবে ধীর শ্বাস-প্রশ্বাসও দ্রুত মন শান্ত করার একটি সহজ কৌশল। কয়েক সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছেড়ে দিলে শরীরের শিথিলতার সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হতে পারে।

আরেকটি সহজ পদ্ধতি হলো 'সেলফ-কম্প্যাশনেট টাচ'। বুকের ওপর নিজের হাত আলতোভাবে রেখে কয়েকবার গভীর শ্বাস নেওয়া এবং নিজের প্রতি ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল ভাবনা তৈরি করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ছোট অনুশীলন মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে সবগুলো পদ্ধতি একসঙ্গে করার প্রয়োজন নেই। ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় বের করে পছন্দের একটি বা দুটি অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করাই হতে পারে মানসিক স্বস্তি ও কর্মচাঞ্চল্য ধরে রাখার সহজ উপায়।