বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অপ্রচলিত বাজারগুলোতে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব বাজারে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৬৫ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ আয় ছিল ৯৯৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে সামগ্রিক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
প্রধান বাজারে শীর্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ অঞ্চলে ৪৯০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। মোট রপ্তানিতে ইইউর অংশ ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বাজারে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় হয়েছে ২২২ কোটি ডলার। মোট পোশাক রপ্তানিতে দেশটির অংশ ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১২৯ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। মোট রপ্তানিতে দেশটির অবদান ১২ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
কানাডার বাজারেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশ ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বাজারে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
নিট পোশাকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশি
পোশাকের ধরন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, ওভেন পোশাকের তুলনায় নিট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির হার বেশি।
ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রচলিত প্রধান বাজারগুলোর পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। তবে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এসেছে অপ্রচলিত বাজারগুলো থেকে।