দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও চালু হয়েছে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সফলভাবে এক প্রসূতির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। জন্ম নিয়েছে কন্যাসন্তান। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য রোগীদের কোনো খরচ বহন করতে হবে না। এমনকি ওষুধও দেওয়া হবে বিনামূল্যে। হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রথম তিন দিন এবং ছাড়পত্রের পরবর্তী পাঁচ দিনের ওষুধ সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রথমবার এ সেবা গ্রহণ করেছেন পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকার ৩০ বছর বয়সী লিজা। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের উদ্যোগে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সেবাটি পুনরায় চালু হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাওহীদ উল ইসলাম জানান, দুই সপ্তাহ আগেই অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রোগী না পাওয়ায় অস্ত্রোপচার শুরু করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার প্রথম রোগীর সফল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে সেবাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে।

স্থায়ী গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় আপাতত প্রতি মঙ্গলবার সপ্তাহে এক দিন সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে। চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য দিনেও এ সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ ও গাইনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়েও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

এ সেবা চালুর ফলে পাকুন্দিয়ার দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রসূতিরা বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ পাবেন।