আওয়ামী শাসনামলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য নিজ পদ ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতি হতে চেয়েছেন—এমন ঘটনা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার এ ধরনের মানসিকতার শিক্ষকদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না। একই সঙ্গে শিক্ষকদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষাদানে মনোযোগী হওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘এক দশকের যৌথ পথচলা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। জিয়া পরিবারকে দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবার হিসেবে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাবনার ব্লু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার।

মালয়েশিয়ার মতো বাংলাদেশকে শিক্ষার হাবে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেধার অবারিত সুযোগ থাকা বাংলাদেশে শিক্ষাকে সঠিক গুরুত্ব দিলে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব। দেশে বর্তমানে বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই আজ ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে করা বিনিয়োগ কখনো বিফলে যায় না। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম শিক্ষাখাতে রেকর্ড ও বড় বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে বর্তমান সরকার। তবে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কেবল সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, এজন্য সমাজের বিত্তবান মানুষদেরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।