চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তুতি জোরকদমে এগিয়ে চলেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতকরণের যাবতীয় কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বুধবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান নিশ্চিত করেন যে, আগামী নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য লক্ষ্য নিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। তবে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সময়মতো ফল প্রকাশের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য অতিরিক্ত খাতা পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির পরও নির্ধারিত ও সম্ভাব্য সময়ের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ।
উল্লিখিত পরীক্ষাসূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয় এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কিছু লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত তারিখে না নিয়ে স্থগিত রাখা হয়, যা পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। এর পর থেকেই দ্রুততার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। দেশের মোট ২ হাজার ৬৯৭টি সেন্টারে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বরাবরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে। এই বোর্ডে ৩১০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে মোট ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। অপরাপর বোর্ডগুলোর মধ্যে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এছাড়া ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।