প্রথমে শ্রাবণের ভুল অ্যাপ্রোচে পায়ের ফাঁক গলে বল জড়াল বাংলাদেশের জালে। এরপর ৩৮ মিনিটে সোহেল রানার ভুল পাস থেকে দ্বিতীয় গোল। আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমেই একের পর এক ভুলের মাশুল দিতে হলো বাংলাদেশ দলকে। আর সেই ভুলের পথ ধরেই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হলো লাল-সবুজের আসিয়ান কাপ অভিযান। হামজা, সোমিত, শুকি, ইতোফুসারা মিলে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতাই হলো সঙ্গী।
ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো আসিয়ান কাপ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। আর উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে। কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও শুরু থেকেই নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে ৪-৩-৩ ফরমেশনে মাঠে নামে হামজা চৌধুরী, সোমিত সোমরা। মাঝমাঠের দায়িত্বে ছিলেন তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী ও সোহেল রানা। আর আক্রমণভাগে তরুণ ফারহান আলী ওয়াহিদ ও ফাহমিদুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন স্ট্রাইকার রাকিব হোসেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে সুযোগ তৈরি করাই ছিল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়েই আসিয়ান কাপে পর্দা ওঠে বাংলাদেশের। পুরো দল একত্রিত হয়ে লাল-সবুজের দেশের জাতীয় সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান ফুটবলাররা। দেশের জার্সিতে নতুন এই মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর প্রত্যয় ছিল সবার চোখেমুখে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামেন প্রবাসী ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ। তবে শুরুর একাদশে জায়গা হয়নি জাপানি উইঙ্গার শুকি ইতোফুসার। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রধান কোচ থমাস ডুলি যে রণকৌশল সাজিয়েছেন, ম্যাচের গুরুত্ব ও প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনায় একাদশে এসেছে সেই পরিবর্তন।
শুরু থেকেই বেশ দেখে-শুনে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা ছিল লাল-সবুজের। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা আসে ম্যাচের ১৮ মিনিটেই। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে আক্রমণে ওঠে মালয়েশিয়া। আর গোলরক্ষক শ্রাবণের ভুল অ্যাপ্রোচে পায়ের ফাঁক গলে বল জড়িয়ে যায় বাংলাদেশের জালে। আরিফ আইমানের শট ঠেকাতে গিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষকের ভুলেই প্রথম গোল হজম করতে হয় লাল-সবুজকে। গোল হজমের পর অবশ্য ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। আক্রমণভাগে রাকিব, ফারহান ও ফাহমিদুলদের নিয়ে মালয়েশিয়ার রক্ষণে চাপ তৈরির চেষ্টা করে দল। কিন্তু শেষ পাস এবং ফিনিশিংয়ে কার্যকর হতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ।
এরই মধ্যে ৩৮ মিনিটে আবারও বাংলাদেশের জন্য আসে বড় ধাক্কা। মাঝমাঠে সোহেল রানার ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের রক্ষণ তখনও পুরোপুরি সংগঠিত হওয়ার আগেই বল চলে যায় প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মালয়েশিয়া। দুই গোল হজম করে ম্যাচে ফিরতে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে হামজা চৌধুরী দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন, সোমিত সোমও বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা চালান। কিন্তু মালয়েশিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করে কাঙ্ক্ষিত গোলের সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। দুই শূণ্য ব্যবধানে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্নক ভঙ্গিতে খেলতে থাকলে গোল কিপারের শ্রাবণের আরো একটি ভুলে তৃতীয় গোল হজম করে বসে তারা। এরপর আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠা বাংলাদেশ কোনো গোল করতে না পারলে হার দিয়ে আসিয়ান কাপের যাত্রা শুরু করে কোচ থমাস ডুলির দল।
আসিয়ান কাপের অভিষেক ম্যাচে তাই নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচজুড়ে কয়েকটি ভালো মুহূর্ত এলেও রক্ষণভাগের ভুল আর আক্রমণভাগের ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে দেখা দেয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যক্তিগত ভুলই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। ফলে ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে প্রথম আসিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচেই হতাশ হতে হলো হামজা চৌধুরী, সোমিত সোম, শুকি ইতোফুসা ও সতীর্থদের। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশের আসিয়ান কাপ অভিযান। এখন পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যই থাকবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের