দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও শীর্ষে কেন্ট। ২০১০ সালে ডিভিশন ওয়ান থেকে নেমে ডিভিশন টু, এরপর কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। কত পেসার এসেছেন, কত মৌসুম পেরিয়েছে - কিন্তু কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবর্তন হচ্ছিল না। অবশেষে ১৬ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান। আর কেন্টের এই প্রত্যাবর্তনের গল্পে এবার জড়িয়ে গেল বাংলাদেশের দুই পেসারের নাম - হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ।
কেন্টের প্রত্যাবর্তনের মঞ্চটা তৈরি করেছিলেন হাসানই। বিসিবির ডাকে দেশে ফেরার আগে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র চার ম্যাচ খেলেই নিয়েছেন ২৬ উইকেট। ম্যাচপ্রতি গড়ে সাড়ে ছয়টিরও বেশি উইকেট - কেন্টের বোলিং আক্রমণে যেন ঝড় তুলেছিলেন এই ডানহাতি পেসার। তাঁর এমন আগুনঝরা স্পেলগুলোই কেন্টকে প্রমোশন দৌড়ে শক্ত ভিত এনে দেয়।
হাসানের পর সেই আগুন আরও উসকে দেন খালেদ আহমেদ। মৌসুমের শেষ দিকে কেন্টে যোগ দিয়েই ২ ম্যাচে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। আর ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে তো এক ম্যাচেই আট উইকেট - কেন্টের সাত উইকেটের জয়ে ম্যাচসেরা হয়ে প্রমোশনের পথটা আরও মসৃণ করে দেন তিনি। শেষ ম্যাচেও গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন আরও পাঁচ উইকেট।
দুজনের পরিসংখ্যানই বলছে, কেন্টের শেষ দিকের লড়াইয়ে বাংলাদেশের পেস ছিল বড় শক্তি। হাসানের চার ম্যাচে ২৬, খালেদের ২ ম্যাচে ১৩ - অর্থাৎ মাত্র ছয় ম্যাচে বাংলাদেশের দুই পেসারের ঝুলিতে ৩৯ উইকেট। একজন শুরু করেছিলেন, আরেকজন যেন সেই গল্পের শেষ অধ্যায়টা লিখে দিলেন। তাঁদের ধারালো পেসে কেন্টের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন পেয়েছে বাস্তবের রূপ।
তবে এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে ছিল পুরো দলের দীর্ঘ লড়াই। ১৪ ম্যাচ শেষে ২১১ পয়েন্ট নিয়ে ডিভিশন টুতে দ্বিতীয় হয়েছে কেন্ট। চ্যাম্পিয়ন ডারহামের সঙ্গে সরাসরি শীর্ষে উঠেছে তারা। শেষ ম্যাচে গ্লস্টারশায়ারকে আট উইকেটে হারিয়ে উদ্যাপনটা করেছে আরও রঙিন করে। আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় - গত মৌসুমে যে দলটি ডিভিশন টু-এর তলানিতে ছিল, মাত্র এক মৌসুম পর তারাই ফিরে গেল শীর্ষ স্তরে।
আর কেন্টের এই প্রত্যাবর্তনে নতুন একটি বার্তাও যেন দিয়ে গেল বাংলাদেশি পেসারদের আগমন।ইংলিশ কাউন্টির কঠিন লাল বলের ক্রিকেটে হাসান ও খালেদের এমন প্রভাব দেখাচ্ছে, বাংলাদেশের পেসাররা শুধু অতিথি হয়ে নয় - দলের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সামর্থ্য নিয়েও আসতে পারেন। কেন্টের ডিভিশন ওয়ানে ফেরার গল্পে তাই ১৬ বছরের অপেক্ষার পাশে লেখা থাকবে আরও একটি অধ্যায় - বাংলাদেশি পেসের আগমনের অধ্যায়।