একদিকে একের পর এক চোটের ধাক্কা, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে তাই কঠিন পরীক্ষা। রাবাদা, এনগিডি, বার্টম্যানের পর সর্বশেষ মাফাকাও চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় প্রোটিয়াদের পেস আক্রমণে তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। 

আর এই দুর্যোগের মাঝেই খুলে গেছে এক দারুণ সম্ভাবনার দুয়ার। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবারের মতো দেখা যেতে পারে যমজ দুই ভাই - মার্কো জ্যানসন ও ডুয়ান জ্যানসনকে। বার্টম্যানের চোটে দলে ডাক পেয়েছেন ডুয়ান, ফলে ভাইয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় তিনি। 

মার্কো অবশ্য এরই মধ্যে প্রোটিয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার, আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজে অনভিজ্ঞ পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার বড় দায়িত্বও পড়েছে তার কাঁধে।

অন্যদিকে ডুয়ানের গল্পটা একেবারেই আলাদা। মাত্র গত মাসেই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে তার। এরপর টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণ বোলিং করে নজর কেড়েছেন, আর সাম্প্রতিক ওয়ানডেতেও দুই ম্যাচে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। এবার সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় মঞ্চে সুযোগের হাতছানি। 

তবে দুই ভাইয়ের একই সঙ্গে একাদশে থাকা এখনো নিশ্চিত নয়। মার্কো দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও ডুয়ানকে জায়গা করে নিতে লড়তে হবে অন্য পেসারদের সঙ্গে। তারপরও যদি দুজন একসঙ্গে মাঠে নামেন, তৈরি হবে প্রোটিয়া ক্রিকেটের এক স্মরণীয় অধ্যায় - আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার একই দলের হয়ে খেলবেন যমজ দুই ভাই।

আর মজার বিষয় হল মার্কো ও ডুয়ানের নিজ শহরেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে। ফলে ঘরের মাঠে যমজ দুই ভাইয়ের একসঙ্গে প্রোটিয়া জার্সিতে নামার দৃশ্য বাস্তব হলে সেটি হয়ে উঠতে পারে সিরিজের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। 

কিন্তু আবেগের গল্পের আড়ালে বাস্তবতাটাও কঠিন - সামনে অস্ট্রেলিয়া, আর দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে একের পর এক ধাক্কা। তাই প্রশ্ন একটাই, চোটের ঝড় সামলে মার্কো-ডুয়ানের হাত ধরে অস্ট্রেলিয়ার সামনে কতটা দৃঢ় হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রোটিয়ারা?