চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২০ অক্টোবর তার এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ঢাকা পোস্টকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। সফরটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। সফর সফল করতে বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি চলছে। এ আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন, যা নগরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রেইনবো নেশন’ গড়ার ভাবনার সঙ্গে এই সফরের তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বিপ্লব দে পার্থ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রামসহ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। চট্টগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তার আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক যাত্রীমোহন সেনগুপ্ত হল, যা জেএম সেন হল নামে পরিচিত, চট্টগ্রামে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতি বছর এই প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয়ভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের কারণে পূজামণ্ডপটি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯২০ সালে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেন তার বাবা যাত্রীমোহন সেনগুপ্তের স্মরণে জেএম সেন হল প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক স্থানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।