আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। প্রথম হামলার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দ্বিতীয় দফায় এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। তালেবান-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, হামলার ফলে তোর কান্দি এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকান এবং রাখা এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তবে এসব স্থানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সোমবার সকাল পর্যন্ত আফগান ভূখণ্ডে চালানো এসব বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রকাশ্যে মন্তব্য বা তথ্য প্রদান করা হয়নি।
সীমান্তের ওপারে হামলা বনাম নিরাপত্তা সংকট সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসলামাবাদ। এর মধ্যেই আফগান ভূখণ্ডে এ হামলা চালানো হলো।
পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামক জঙ্গিগোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের ভেতরের নিরাপদ আস্তানা ব্যবহার করে পাকিস্তানে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তালেবান শুরু থেকেই এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে অস্বীকার করে আসছে।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে বিমান হামলার ঠিক এক দিন আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার হাঙ্গু জেলায় জঙ্গিদের সঙ্গে মুখোমুখি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই সেন কর্মকর্তাসহ ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কোহাটে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার সঙ্গেও আফগানিস্তান থেকে আসা উগ্রবাদীদের সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করে আসছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌমত্ব বনাম আত্মরক্ষার দ্বন্দ্ব ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলা এক অন্যতম প্রধান উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। পরমাণু অস্ত্রধারী পাকিস্তানের দাবি, নিজস্ব ভূখণ্ডে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার আইনি অধিকার হিসেবে টিটিপি ও তাদের সহযোগীদের আস্তানা লক্ষ্য করে তারা এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অপরদিকে, তালেবান কর্মকর্তারা অতীতে সংঘটিত প্রতিটি পাকিস্তানি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সাথে এসব হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তালেবানের অভিযোগ—পাকিস্তান জঙ্গিদের আস্তানার দোহাই দিয়ে মূলতঃ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
সর্বশেষ সীমান্ত পেরিয়ে এই বিমান হামলার ঘটনা কাবুল ও ইসলামাবাদের টানাপোড়েনপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল ও অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই প্রতিবেশী দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে নতুন এই ঘটনা বাড়তি সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিল।