দেশ পরিচালনায় বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এবার সরকারকে আরও কঠোর বার্তা দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ক্ষমতা ছাড়ার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতা থেকে কীভাবে বিদায় নেবেন, সেটি তারেক রহমানকেই ঠিক করতে হবে। তার ভাষায়, তিনি কি হেলিকপ্টারে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকেই। এই বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর এইচ এম এরশাদের পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এনসিপির আহ্বায়ক।

একই সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্র সংকুচিত করার অভিযোগ তোলেন নাহিদ। তিনি বলেন, ইতিহাসে যারা গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছে, শেষ পর্যন্ত তাদের জায়গা হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। লংমার্চের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে কিংবা নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মানুষের অংশগ্রহণের এই স্রোত থামানো যাবে না।

নাহিদের বক্তব্যে উঠে আসে আরও কঠোর রাজনৈতিক বার্তা। তিনি বলেন, দাবি এখন আট দফায় থাকলেও পরিস্থিতি ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী তা এক দফায় পরিণত হতে পারে। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

একই সুর শোনা যায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ১১-দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবি ভবিষ্যতে নয় বা দশ দফায় বাড়তে পারে, আবার জাতীয় প্রয়োজন দেখা দিলে সেটি এক দফাতেও রূপ নিতে পারে। দাবি পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেও সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।

১১-দলীয় জোটের এই লংমার্চে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আটটি দাবি সামনে রাখা হয়েছে।

জোটের নেতাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি বিষয় এগুলো কোনো একক দলের দাবি নয়, বরং জনগণের দাবিকে সামনে রেখেই তারা মাঠে নেমেছেন। শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। ঢাকা-রংপুর লংমার্চের মধ্য দিয়ে তাই রাজনৈতিক মাঠে নতুন করে উত্তাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১-দলীয় ঐক্য। এবার রংপুরমুখী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতারা বিরোধী জোটের এই কর্মসূচির সমালোচনা করে আসছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের অভিযোগ তুলছেন।