সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই এলো নেতৃত্ব বদলের খবর। টানা তিন সপ্তাহ ধরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের আন্দোলনের পর অবশেষে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে আন্দোলনের উত্তাপের মধ্যেই সিকৃবির প্রশাসনে ঘটল বড় পরিবর্তন।

সোমবার বিকেলে জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ শফি উল্ল্যাহ মজুমদারকে। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়োগের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকবেন।

নতুন দায়িত্বের সঙ্গে বেশ কিছু শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। উপাচার্য হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে।

তবে নতুন নিয়োগের পেছনে যে প্রেক্ষাপট, সেটি তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকে। বর্তমান উপাচার্য মো. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলনে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। সোমবারও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেন তারা।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় উপাচার্যকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন আলিমুল ইসলাম। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যেই একটি অংশ আন্দোলনে নেমেছে। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন বলেও জানান।

আলিমুল ইসলাম ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে সিকৃবির উপাচার্যের দায়িত্ব পান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দায়িত্ব পালন করলেও সাম্প্রতিক আন্দোলনের কারণে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয় তীব্র বিরোধ। সেই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ শফি উল্ল্যাহ মজুমদার।

এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের পরিবর্তন করা হয়েছে। এতদিন সেই তালিকার বাইরে ছিল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শেষ পর্যন্ত সিকৃবিতেও এলো পরিবর্তনের বার্তা - আন্দোলনের আবহে নতুন উপাচার্যকে ঘিরে এখন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক পরিবেশ কোন দিকে যায়, সেটিই দেখার বিষয়।