ইপোক্সাইড রেজিনের নামে ‘প্রিপেয়ার্ড অ্যাডহেসিভ’ বা প্রস্তুত আঠা আমদানি করে বড় অঙ্কের শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা করেছিল ওএসএল ফার্মা লিমিটেড। তবে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে পণ্যটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাজস্ব ফাঁকির সেই চেষ্টা ধরা পড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে চালানটির অসত্য এইচএস কোড শনাক্ত করা হয়। পরে রাজস্ব ফাঁকির অর্থ, অর্থদণ্ড ও বিমোচন জরিমানাসহ মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা আদায় করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ওএসএল ফার্মা লিমিটেড ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি ওজনের একটি রাসায়নিক পণ্যচালান আমদানি করে। চালানটিতে পণ্যকে এইচএস কোড ৩৯০৭৩০০০-এর আওতায় ‘ইপোক্সাইড রেজিন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই শ্রেণিতে প্রযোজ্য মোট করভার বা টিটিআই ছিল ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সেই হিসাবে ঘোষিত শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা।

তবে কায়িক পরীক্ষার সময় চালানটিতে দুই ধরনের রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পণ্যগুলোর প্রকৃত পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

পরীক্ষার প্রতিবেদনে নমুনা দুটি যথাক্রমে ইপোক্সাইড রেজিন ও পলিআমাইড রেজিন বলে নিশ্চিত করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট অনুপাতে এই দুই উপাদান একসঙ্গে মেশালে প্রস্তুত আঠা বা ‘অ্যাডহেসিভ’ তৈরি করা যায়। ফলে এগুলোকে শুধু আলাদা কাঁচামাল হিসেবে নয়, পরস্পরের পরিপূরক উপাদান হিসেবে একই চালানে এনে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য প্রস্তুত পণ্য হিসেবে শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ রয়েছে।

এই শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী চালানটির প্রযোজ্য মোট করভার বা টিটিআই দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। ফলে আমদানিকারকের ঘোষণার ভিত্তিতে নির্ধারিত শুল্ক-কর থেকে অতিরিক্ত ১ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব পরিশোধযোগ্য হয়।

পরে রাজস্ব ফাঁকির ওই অর্থের সঙ্গে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা বিমোচন জরিমানা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা আদায় করেছে।

কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, রাসায়নিক পণ্যের ক্ষেত্রে শুধু আমদানিকারকের দেওয়া ঘোষণা ও কাগজপত্রের ওপর নির্ভর না করে কায়িক পরীক্ষা এবং নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় ও সঠিক শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করা হয়েছে। অসত্য ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা ঠেকাতে ভবিষ্যতেও কায়িক পরীক্ষা, পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ এবং শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।