রাজধানীর বাজারে আবারও কমতে শুরু করেছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ। বিশেষ করে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেল তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম ছিল। দাম বাড়ানোর পর কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এখন আবার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আদাবর বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। কয়েকটি দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে সব বাজারে একই মাত্রায় সরবরাহ কমেছে—এমনটিও নয়।
খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, কোম্পানিগুলো বাজারে আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল দিচ্ছে। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো দাম আরও কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে সরবরাহ কমার পেছনে শুধু কোম্পানিগুলোর ভূমিকা দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদিদোকানি হুমায়ুন কবীর বলেন, এক ও দুই লিটারের বোতল বিক্রি করে তুলনামূলক কম লাভ হয়। ফলে অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা এই দুই আকারের বোতল কম রাখেন। অন্যদিকে পাঁচ লিটারের বোতলে লাভের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেটির প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে।
এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাঁচ টাকা দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। দেশের একটি শীর্ষ ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম অনেক বেড়েছে। তাঁদের কেনা দামের তুলনায় বাজারে তেলের দাম সেই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
তবে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, মিল পর্যায় থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমানো হয়নি। অর্থাৎ বাজারে কম তেল পাওয়ার বিষয়টি উৎপাদন পর্যায়ের সংকটের কারণে নয় বলেই তাঁদের বক্তব্য।
এদিকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে তেল কিনতে গিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন কিছু ক্রেতা। বিশেষ করে এক বা দুই লিটারের বোতল নিয়মিত কেনেন এমন ক্রেতাদের কেউ কেউ পছন্দের ব্র্যান্ডের তেল না পেয়ে অন্য ব্র্যান্ড নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সরবরাহ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সামনে বাজারে দাম ও প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।