যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্বের শীর্ষ দুই পরাশক্তির সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে তিনি ‘অত্যন্ত গর্বিত’। একই সাথে শি জিনপিংয়ের সাথে তাঁর অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অত্যন্ত ‘চমৎকার’ হয়েছে বলেও তিনি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় ও বিনিয়োগকারী চীনা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ওয়াশিংটন ন্যায্য আচরণ বজায় রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ঐতিহ্যবাহী ‘রোজ গার্ডেন’-এ চীনা প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিক করমর্দন, উষ্ণ শুভেচ্ছা ও জমকালো সামরিক সংবর্ধনার মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
সংবর্ধনা শেষে ওভাল অফিসে আয়োজিত শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা মিলিত হন। বৈঠকের পূর্বে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই বৈঠকে জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি এবং দুই দেশের প্রযুক্তি বিনিময় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। ট্রাম্প বলেন, “আজকের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যেসব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা আগামী কয়েক দশক ধরে সারা বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে সক্ষম হবে।”
গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরুর আগে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, প্রধান প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একসাথে কাজ করে নিজেদের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের দুটি দেশ মূলত একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে এবং এই সুসম্পর্ক নিয়ে আমরা অত্যন্ত গর্ব অনুভব করি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের জবাবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পৃথক দুটি রাষ্ট্র হলেও উভয় দেশের অর্থনীতি ও স্বার্থ নিবিড়ভাবে একে অপরের সাথে জড়িয়ে রয়েছে। নিয়মিত সংলাপে বসার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”
সহযোগিতার অপরিহার্যতা তুলে ধরে শি জিনপিং আরও বলেন, “উভয় দেশের যৌথ পদক্ষেপ বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান হয়তো এক নিমেষে করতে পারবে না, তবে এই দুই শক্তি একসাথে কাজ না করলে বৈশ্বিক বহু জটিল সংকটের সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আগাম উষ্ণ অভিনন্দন জানান চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে তাঁর গভীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রয়েছে এবং নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে এক বিশেষ ঘোষণা দিয়ে শি জিনপিং বলেন, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের এক লাখ তরুণকে সরকারি আমন্ত্রণে চীন সফরের সুযোগ দেওয়া হবে, যা একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে লাল গালিচা সংবর্ধনা, সামরিক ব্যান্ড দল, আকাশে যুদ্ধবিমানের মহড়া, দুই দেশের জাতীয় পতাকা এবং রাজকীয় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজসহ অত্যন্ত বর্ণাঢ্য সব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
তবে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজন ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক প্রচার সত্ত্বেও দুই পরাশক্তির মূল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা বাণিজ্য যুদ্ধের জটিল সমস্যাগুলো নিরসনে এই সফর শেষ পর্যন্ত কতটা তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে— তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ।