রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন, ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, সাময়িক অর্থসহায়তা দিয়ে দীর্ঘদিনের এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তিনি নিজে একাধিকবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে মানুষের দুর্ভোগ ও করুণ বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার একমাত্র স্থায়ী পথ হলো রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি করা। তবে সেই পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একা এই সংকটের সমাধান করতে পারবে না। চীন ও ভারতকে এ ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে এগিয়ে আসতে হবে, পাশাপাশি মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও ভূমিকা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশকে সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার ওপর জোর দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কার সঙ্গে আলোচনা করা হবে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে চীন, ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জাতিসংঘ উদ্যোগ নিলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন মানবিক পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেগুলো সবসময় বাইরে আসার সুযোগ থাকে না।

সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু ত্রাণনির্ভরতার পরিবর্তে রোহিঙ্গাদের উৎপাদনমুখী কাজে প্রশিক্ষণ ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়া ও তুরস্কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শরণার্থীদের বন্দিশিবিরে আটকে না রেখে তুলনামূলকভাবে চলাফেরা, জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশেও রোহিঙ্গাদের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং সীমিত পরিসরে চলাচল ও আয়মূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।