বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান তীব্র বাণিজ্য বিরোধের মাঝেই চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্বের সর্ববৃহৎ দুই অর্থনীতির শীর্ষ নেতাদের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও প্রত্যাশা।
তবে গত মে মাসে বেইজিংয়ে দুই নেতার সর্বশেষ শীর্ষ বৈঠকে বাণিজ্য সংকট নিরসনে বড় কোনো অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। ফলে এবারের বৈঠক থেকে আদৌ কোনো স্থায়ী সমঝোতা আসবে নাকি বিদ্যমান শুল্ক যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
‘কৌশলগত অচলাবস্থা’ ও সময়ের হিসাব জার্মানির বার্লিনভিত্তিক চীনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মেরিকস’-এর পরিচালক মিক্কো হুওতারি গত সপ্তাহে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে জানান, বেইজিংয়ের নীতি নির্ধারকদের ধারণা—ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
মিক্কো হুওতারির মতে, “শি জিনপিংয়ের জন্য ওয়াশিংটনে কোনো বড় ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা সম্পন্ন করা জরুরি নয়। বরং তাঁর এই মুহূর্তে প্রয়োজন আরও খানিকটা সময়। একইভাবে ওয়াশিংটনও চায় চীনের কাছ থেকে বাড়তি সময় আদায় করতে। অর্থাৎ, দুই দেশই মূলত একধরনের ‘কৌশলগত অচলাবস্থা’ বজায় রেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।”
আলোচনার কেন্দ্রে কি শুধুই বাণিজ্য? গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে দুই দেশই একে অপরের পণ্যে একের পর এক শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক আরোপ শুরু করে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক একাধিক আলোচনার মাধ্যমে সেই উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। বর্তমানে দুই পরাশক্তির মধ্যে একটি ভঙ্গুর ও অস্থায়ী বাণিজ্য সমঝোতা বজায় রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের এবারের বৈঠকে শুল্ক হ্রাসের বিষয়টি ছাড়াও মার্কিন বাজারে চীনা পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং চীনে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্পপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর উপাদান ‘বিরল খনিজ’ বা রেয়ার আর্থের (Rare Earths) নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ইস্যুটিও আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে।