দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি কোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বা আগ্রাসী শক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবার সঙ্গে বসার স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তার বাবা একসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের রাকসু নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়েছিলেন। শহীদ আবরারের বাবার কাছ থেকে এ কথা শুনে তিনি আবেগাপ্লুত ও গর্বিত হয়েছেন বলেও জানান।

রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, এর বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ সাহসী প্রতিবাদ করেছিলেন। আর এ কারণেই তাকে হত্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আবরারের হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণের মধ্যে প্রতিবাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই জাগরণের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন সংঘটিত হয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

ছাত্রদলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে রাজপথে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও তারা খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনীতির ধারাকে অনুসরণ করে রাজপথে সক্রিয় থেকেছে। কোনো গোপন রাজনীতির আশ্রয় না নিয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, আবরারের আত্মত্যাগ দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।