দুবাইয়ের প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারে সাফল্যের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মো. জোনায়াত হোসাইন। রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান অবজেক্ট ওয়ান তাকে দিয়েছে ‘টপ ব্রোকার অব দ্য মান্থ’ সম্মাননা। একটি বিনিয়োগের লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন করা, বিক্রয়ে ভালো ফলাফল এবং পেশাগত নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ের ডাউনটাউনের ইমার স্কয়ারে অবস্থিত অবজেক্ট ওয়ানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জোনায়াতের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাতিয়ানা টোনু। দুবাইয়ের আবাসন খাতে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এমন স্বীকৃতি পেলেন এই বাংলাদেশি উদ্যোক্তা।

জোনায়াতের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটিও শুরু হয়েছিল চাকরি দিয়ে। ২০২১ সালে দুবাইয়ে গিয়ে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন তিনি। সেখানে কাজ করতে গিয়ে দেশটির রিয়েল এস্টেট বাজার, ক্রেতাদের চাহিদা এবং বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৩ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান ATZ Luxe Real Estate প্রতিষ্ঠা করেন জোনায়াত। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আবাসন ব্যবসায় জোনায়াতের লক্ষ্য শুধু সম্পত্তি বিক্রি করা নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি কেনা কিংবা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়াকে তিনি গুরুত্ব দেন। বিভিন্ন প্রকল্পের দাম, কিস্তির সুযোগ, অবস্থান ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার ওপর জোর দিচ্ছে তাঁর প্রতিষ্ঠান।

রিয়েল এস্টেটের পাশাপাশি ব্যবসার পরিধিও বাড়িয়েছেন জোনায়াত।ATZ Group-এর অধীনে বর্তমানে ATZ Luxe Real Estate-এর পাশাপাশি ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে ATZ Holidays এবং ডিজিটাল সেবা খাতে ATZ Digital পরিচালনা করছেন তিনি। একই সঙ্গে স্পোর্টস ও ইভেন্টস খাতে Atzala নামে নতুন উদ্যোগ এবং প্রপার্টি প্রযুক্তিভিত্তিক ATZvest প্ল্যাটফর্ম নিয়েও কাজ করছেন।

দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট খাতে পাওয়া এই স্বীকৃতিকে নিজের পেশাগত যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন জোনায়াত হোসাইন। তাঁর মতে, মানুষের প্রয়োজনের সমাধান করতে পারে—এমন ব্যবসা গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। আবাসন খাতে কাজের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবার পরিধি আরও বাড়াতে চান তিনি।

 

<p/>