নতুন পে স্কেল কার্যকর হতেই সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের  মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।  অবসরে গেলেও কি মিলবে নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা? নাকি নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের কারণে বাদ পড়বেন অনেকেই? বিশেষ করে ১ জুলাই অবসরে যাওয়া কর্মচারীদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার জন্য নিয়ম এক নয়। 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে  অবশেষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন এই বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন। গেজেটের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল  ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের আগেই সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে, তাঁরা এই নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন পুনর্নির্ধারণের সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ, নতুন স্কেল চালুর ঠিক আগের দিন যারা অবসরে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন পে স্কেলে মূল বেতন পুনর্বিন্যাসের সুযোগ রাখা হয়নি।

তবে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কিংবা এর পরে যাঁরা পিআরএল বা অবসরে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য রয়েছে আলাদা বিধান। তাঁদের শেষ মূল বেতনটি নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেল অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এমনকি অবসর-উত্তর ছুটির সময় কোনো কর্মচারীর বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির বা ইনক্রিমেন্টের তারিখ পড়লে, সেই সুবিধাগুলোও তাঁদের পেনশন ও গ্র্যাচুইটি হিসাবের জন্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

নতুন বেতন কাঠামোর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন দ্বিগুণ হয়েছে, আর সর্বনিম্ন গ্রেডে বেড়েছে ১৪২ শতাংশ।শুধু তাই নয়, ১ জুলাই কোনো কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত থাকলে পুনর্বহাল হয়ে কাজে যোগ দেওয়ার আগে তাঁর বেতন নতুন স্কেলে ফিক্সেশন করা হবে না। অর্থাৎ অবসরে যাওয়া, অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কিংবা সাময়িক বরখাস্ত প্রতিটি অবস্থার জন্যই রয়েছে পৃথক নিয়ম।