বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো এবং দেশটির উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করাও এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের নেতৃত্বে ৩৯ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আগামী ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর চার দিনের সফরে কুয়ালালামপুর যাবে। সফরকালে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন। এ সফরের বিভিন্ন কার্যক্রমে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সহযোগিতা করছে।

>সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেবে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল। এর মধ্যে রয়েছে ক্ল্যাং চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স এবং ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব মালয়েশিয়া। এসব আয়োজনে বাংলাদেশি ও মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিটুবি সেশনের মাধ্যমে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ হবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন ক্রেতা ও অংশীদার খোঁজা, সম্ভাব্য যৌথ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

এ ছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক হালাল পণ্যের বড় আয়োজন ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস)-২০২৬’-এ অংশ নেবেন ডিসিসিআই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের হালাল শিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন।

সফরকালে মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী টিয়ং কিং সিং এবং উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিং টংয়ের সঙ্গে ডিসিসিআই নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং পারস্পরিক ব্যবসায়িক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অংশ প্রায় ৩৭ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশে প্রায় ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

দুই দেশের পণ্যবাণিজ্যেও রয়েছে বড় পরিমাণের ব্যবধান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ২ দশমিক ২৯৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হলেও দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগও রয়েছে। দেশটির উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৭৫৫ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কেমিক্যাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল, নির্মাণ এবং টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে এসব বিনিয়োগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে ডিসিসিআইয়ের এবারের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন যোগাযোগ তৈরি, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। চার দিনের সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে ৩৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলের।