শনিবারের পর দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও কমানো হলো সোনার দাম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।
এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। অর্থাৎ দুই দফায় ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। এবার প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫২৪ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম হয়েছে ৪ হাজার ৪৯০ টাকা।
দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি। সেদিন এক লাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এরপর দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচে নেমে গেলেও পরে আবার বাড়তে থাকে। ফলে বছরজুড়েই ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের সোনার বাজার।
বিশ্ববাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১৯১ ডলার, যা আগের তুলনায় ৮৭ ডলার কম। গত ৩০ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ১৫২ ডলার।
সাধারণত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনার চাহিদা বাড়ে। তবে এবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পরও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে। গত ছয় মাসে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ২৫০ ডলার। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি স্পট মার্কেটে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারে উঠেছিল।