একসময় পাটের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশায় দিন কাটছিল চাষিদের। তবে সেই চিত্রে এবার যেন বদলের হাওয়া। অনুকূল আবহাওয়া আর ভালো ফলনে নওগাঁয় ফিরেছে সোনালি আঁশের জৌলুস। মৌসুমের শুরুতেই পাটের বাজার চড়া হওয়ায় দীর্ঘদিন পর হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
মাঠের ভালো ফলনের পর এবার জমজমাট পাটের হাটও। জেলার অন্যতম বড় পাটের বাজার মান্দার সতীহাটে ভোর হতেই শুরু হয় কৃষকের আনাগোনা। বিভিন্ন যানবাহনে দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট নিয়ে হাজির হচ্ছেন চাষিরা। মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
শুধু ভালো দাম নয়, বাজারে পাটের চাহিদাও এবার বেশ শক্ত। সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা বেশি থাকায় দরদাম করে পাট বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকেরা। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানেই মণপ্রতি দাম বেড়েছে কয়েকশ টাকা। চাষিদের ভাষ্য, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারই পাট নিয়ে সবচেয়ে স্বস্তির মৌসুম দেখছেন তারা।
এই স্বস্তির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে অনুকূল প্রকৃতি। পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে জমিতে সেচের খরচ কমেছে, পাশাপাশি খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয়ে মিলেছে পর্যাপ্ত পানি। ফলে পাট কাটার পর জাগ দেওয়া থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়ানো - সব কাজই হয়েছে তুলনামূলক সহজে। আর ভালোভাবে জাগ দেওয়ায় পাটের আঁশে এসেছে উজ্জ্বল রং, বেড়েছে বাজারমূল্যও।
চাষিদের প্রত্যাশাও তাই এখন আরও বড়। ভালো মানের পাট কিছুদিন ধরে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে প্রতি মণ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়ার আশা করছেন কেউ কেউ। তবে পাট চাষে পরিশ্রমও কম নয়। আবাদ থেকে শুরু করে কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানো - প্রতিটি ধাপেই কৃষকের ঘাম ঝরে। সেই শ্রমের বিপরীতে এবার মিলছে কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তির ইঙ্গিত।
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের মান ও রং দুটোই ভালো। চাহিদা থাকায় বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে তাদের। বর্তমানে মানভেদে সাড়ে তিন হাজারের বেশি থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। বাজারে সরবরাহ আরও কমে এলে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থাৎ সোনালি আঁশের বাজারে এখন আশার আলো আরও উজ্জ্বল।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় প্রায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। শুধু আঁশ নয়, পরিবেশবান্ধব নানা পণ্য তৈরিতেও পাটের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাই কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিতের পাশাপাশি পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে সোনালি আঁশের এই সুদিন আরও দীর্ঘ হতে পারে - এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।