ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে ওমানি সহ-পাইলটের রক্তক্ষয়ী হামলার মুখে পড়েও চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছার। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জ্ঞান হারানোর উপক্রম হলেও তিনি শেষ মুহূর্তে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন এবং বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করেন। পরে এক যাত্রী ও পেশায় দন্ত চিকিৎসকের তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় তার জীবন রক্ষা পায়।

ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওমানি সহ-পাইলট ওই সময় বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরিস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চারজন যাত্রী ককপিটের দিকে ছুটে যান। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দন্ত চিকিৎসক মুসায়েভ শোটা। হামলাকারীকে পরাস্ত করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তিনিই আহত পাইলটের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েনেট’-এর সঙ্গে আলাপকালে চিকিৎসক শোটা জানান, বিপদের কথা বুঝতে পেরে তিনি এক মুহূর্তও দেরি না করে ককপিটের দিকে দৌড়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন পাইলটের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তার মাথা ও হাত থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। বিমানে অন্য কোনো চিকিৎসক না থাকায় তিনিই দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ করার প্রাথমিক চেষ্টা চালান। সিএনএনকে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে শোটা জানান, পাইলটের ক্ষতগুলোর গভীরতা এত বেশি ছিল যে তা প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

এত গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও পাইলট স্মিত মাচ্ছার জ্ঞান হারাননি। বিমানের মেঝেতে নিজের রক্তের মধ্যে শুয়ে তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি জানান, হামলাকারী তাকে ছুরিকাঘাত করার পাশাপাশি গালিগালাজও করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া বক্তব্যে শোটা জানান, পাইলট পুরো সময় ধরে প্রার্থনা করছিলেন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

ঘটনার পর বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানে স্থানীয় চিকিৎসক দল আহত পাইলটের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। এদিকে সৌদি আরবে নিযুক্ত ভারতের দূতাবাস এবং জেদ্দার ভারতীয় কনস্যুলেট পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে ক্যাপ্টেন মাচ্ছার চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। দূতাবাসের পক্ষ থেকে তার পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।